তারা দিয়ে বেশকিছু বিখ্যাত নাম আছে। তারমধ্যে অবশ্যই তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায় সবার আগে আসে, এরপর তারাপদ রায়, বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের জনপ্রিয় চরিত্র ‘তারানাথ তান্ত্রিক’। সবাই ‘তারা’। আবার তারাশঙ্করের ‘রায় বাড়ি’ গল্পের চরিত্র ‘রাবণেশ্বর রায়’ নিজেও একটু পরপর ‘তারা তারা’ নাম জপতে থাকেন।
যাইহোক, তারা বাদ দিয়ে যদি ‘সিরাজ’ নামে আসে তাহলেও একাধিক নাম চলে আসে আমাদের মনে। অবশ্য আমার মনে প্রথমে আসে আমার হাইস্কুলের সিরাজুল স্যারের কথা। তবে ইতিহাসের পথে হাঠলে সবার আগে নবাব সিরাজদ্দৌলার সাথে সবার আগে দেখা হবে, এরপরেই চলে আসেন সিরাজ শিকদার, সিরাজুল আলম খান। বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেষোক্ত দুটি নাম আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে।
ইতিহাস বা রাজনীতির বাস্তব চরিত্রগুলোর উপর নির্ভর করে উপন্যাস রচনা করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এতে পাঠকের একরকম প্রত্যাশা থাকে, আবার উপন্যাস লিখতে গিয়ে লেখক অবশ্যই কোথাও না কোথাও রঙ চড়িয়ে থাকেন, ফলে অনেক পাঠক বাস্তব আর রঙ দুটোকেই বাস্তব হিসেবে বিশ্বাস করতে আরম্ভ করেন। বিশ্বাস বড় ভয়ানক জিনিস।
লেখক রাজীব হাসান ইতিহাসের দুই সিরাজকে নিয়ে রচনা করেছেন নতুন উপন্যাস ‘সিরাজ’। রাজনীতির দুই রহস্য পুরুষ সিরাজ শিকদার ও সিরাজুল আলম খানকে এক মলাটে আবদ্ধ করে উপন্যাস রচনা এটাই প্রথম।
লেখক এই বইয়ের প্রচারণায় একটি চমৎকার পথ অবলম্বন করেছেন। ফেইসবুকে পোস্ট করে বলেছেন, কমেন্টে ইমেইল অ্যাড্রেস দিলে এই বইয়ের ৩টি অধ্যায়ের পিডিএফ পড়ার সুযোগ পাওয়া যাবে। আমিও সেই পিডিএফ প্রাপ্ত হয়েছি ও পড়েছি। আমার মত শতশত পাঠক সেই পিডিএফ পেয়েছেন ইতোমধ্যে। বইয়ের প্রচারণায় এটা দারুণ পদক্ষেপ।
শিকদার আর খান সিরাজ নিয়ে উপন্যাস হলেও, এর শুরুটা কিন্তু নবাব সিরাজদ্দৌলাকে দিয়েই হয়েছে। আসলে সিরাজের নাম নিয়ে নবাবকে বাদ দিলে হয়তো কিছু একটা মিসিং অনুভব করতো পাঠক, এজন্য হয়তো নবাবের ক্যামিও রেখে লেখক তাঁর পাঠককূলকে নিরাশ করন নি।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘সেই সময়’ পড়ার সময় একেএকে বিখ্যাত সব চরিত্র জীবন্ত হয়ে দেখা দিতে লাগে। দৃশ্যপটে মাইকেল মধুসূদনের আগমন কী দারুণ ছিলো, ভোলা যায় না। ‘সিরাজ’ পড়তে গিয়েও এমন হবেই এটা সহজেই অনুমেয়। মাত্র ৩টি অধ্যায় পড়তে গিয়ে দেখা হয়ে গেলো বাংলাদেশের বাঘা বাঘা সব নেতাদের সাথে।
তবে আমি সবচেয়ে উপভোগ করেছি সিরাজুল আলম খান ও মোয়াজ্জেমের তাস খেলার অংশটা। এখানে লেখকের বর্ণনা ছিলো অনবদ্য। ক্রীড়াপ্রেমিরা যেমন দম বন্ধ করে খেলার লাস্ট মিনিটের জয় পরাজয় নির্ধারণী অংশ দেখে, আমি নিশ্চিত একজন পাঠক তাস খেলার এই অংশটাও দম বন্ধ করেই পড়বে।
বইটি কীরকম সাইজের হবে, দাম কত হবে জানি না। কবে, কোথায় প্রকাশিত হবে তাও জানি না। তবে প্রকাশিত হলে পড়ার ইচ্ছা পোষণ করে রাখছি।

