চাকরির যোগ্যতা

আমার বন্ধু রাজীব একদিন হঠাৎ দেখা করে বলছে- দোস্ত, আমার একটা চাকরি দরকার। শুধু চাকরি হলেই হবে না, ভালো চাকরি হতে হবে। প্লিজ হেল্প কর। 

আমি তো অবাক! কারণ, রাজীব অলরেডি বিরাট এক চাকরি করে। এতটাই বিরাট যে, দেশে বসে অনেকেই এমন একটা জবের কথা চিন্তাই করে না। 

 

আমি বললাম- তুই ডাক্তার দেখা। 

ক্যান, দোস্ত?

তুই নিজেও ভালো করে জানিস, জব মার্কেটে তুই কোন লেভেলের জব বাগিয়েছিস। এরপরেও তুই যেহেতু এসে বিরাট জব চাচ্ছিস, সেহেতু তোর নিশ্চয় অসুখ করেছে। যা, ডাক্তার দেখা। 

তুই যদি আসল ঘটনা জানতি, তাহলে আমার কথাটাকে এমন হালকা করে নিতি না। 

আচ্ছা বল তাহলে। 

যে পজিশনে জব করি, আমি নিজেই রিয়্যালাইজ করি যে, এই জব আমি ডিজার্ভ করি না। এটা নিয়ে অনেকদিন ধরে মনের মধ্যে একটা তুফান চলছিলো। সেই তুফান থামাতে গিয়ে এইচআর ম্যানেজারের সাথে খাতির জমিয়ে ফেললাম। একদিন জিজ্ঞাসা করলাম- আচ্ছা, আমিতো ইন্টারভিউতে ভালো করি নি, তাহলে আমাকে হায়ার করলেন ক্যানো? সে আমাকে বললো- আমার না কি অনেক ধৈর্য, এজন্য আমাকে হায়ার করেছে। 

ভালো তো। কিন্তু তোর এতো ধৈর্য নেই। ওরা কীভাবে এমন ধারণা করলো? 

এই তো, এটা জানলেই তো তুইও বলবি জলদি চাকরি খুঁজতে। চাকরির পরীক্ষার দিন রিটেন আর ইন্টারভিউয়ের মাঝে আমাদের লাঞ্চ করিয়েছিলো। মেন্যু ছিলো- সাদা ভাত আর মুরগীর ঝোল। কিন্তু প্রত্যেকের বাটিতে মুরগীর পা ছিলো দুটো করে। আমাদেরকে বলা হয়েছিলো- খাবার যেন নষ্ট না হয়। সুতরাং সবাই খাবার শেষ করেছিলো। 

আসল কথাটা বল না। 

আরে আসল কথাই বলছি, শোন আগে পুরোটা, টাস্কি খেয়ে যাবি। আমি মুরগীর পা পছন্দ করি, এটা ছিলো কোইনসিডেন্স। হাতে সময় নিয়ে সেদিনও মুরগীর পা খেয়েছিলাম। 

তারপর?

অফিসের এমডি নাকি প্রত্যেক ক্যান্ডিডেটের তরকারির ডাস্টের বাটি চেক করেছে খুঁটিয়ে। সেই চেকিংয়ের রেজাল্ট হচ্ছে আমার এই চাকরি। 

বলিস কী! এই মামা আরেকটু বিস্তারিত বল। 

মুরগীর পা খেতে অনেক ধৈর্যের দরকার হয়। মানে আমি মুরগীর পা খাওয়ার সময় হাড়ে লেগে থাকা খাওয়ার যোগ্য পুরো অংশটাই যত্নের সাথেই আলাদা করে খাই। আমার বস সবার বাটির ফেলে রাখা হাড্ডি দেখেই আন্দাজ করে ফেলেছে কে ধৈর্য নিয়ে সুন্দর করে খেয়েছে। আমার বাটির হাড্ডি দেখে তিনি স্যাটিসফাইড হয়েছেন যে, আমি বিরাট ধৈর্যশীল, সুতরাং আমার চাকরি ফাইনাল। এখন তুই বল- এটা কোনো রিক্রুটিংয়ের ধরণ হলো? 

আমি তো আসলেই টাস্কি খেয়ে গেলাম দোস্ত!

ব্যাপারটা বোঝ, ধর মুরগীর ঠ্যাঙ খেয়ে আমার চাকরি হয়েছে। কিন্তু আমি তো আসলেই ধৈর্যশীল নই। আমার এই চাকরি তো থাকবে না। এজন্য নতুন চাকরি লাগবে। আর তাছাড়া মুরগির ঠ্যাঙ খেয়ে চাকরি পেয়েছি, এটা ভাবতেই আমার কেমন লাগছে। 

দোস্ত, তুই এখন যা, রাতে ফোনে কথা হবে। আমি বাজারে যাবো। 

বুঝলাম না, কথা মাঝখানে টয়লেটের মত বাজারে যাওয়া চাপলো ক্যান?

মুরগীর পা কিনতে যাবো। আজ থেকে মুরগীর ঠ্যাঙ খাওয়া প্রাকটিস করবো। তোর চাকরি গেলে আমি ইন্টারভিউ দিবো। মুরগীর ঠ্যাঙ খেয়েও যদি এমন কিছু জুটে যায়, তাও চলবে। তুই যা এখন!

Scroll to Top