ফেরেব্বাজ জুয়েল

আমার ব্যবসায়ী বন্ধু জুয়েল। ওকে আমি ফটকা জুয়েল ডাকি। আমি যতবার ওকে ফটকা জুলেল ডাকি, ও দাঁত বের করে হাসে।
আজকের গল্পে ওকে আমি ফেরেব্বাজ জুয়েল বলবো। সম্প্রতি লেখক আবদুল মাজেদ জুয়েলের কান্ড-কারখানা জেনে ওকে ফেরেব্বাজ বলেছেন।

গত বুধবার জুয়েলের সাথে সাক্ষাৎ হলো, ওর বিশাল অফিসে। যথারীতি নতুন বিজনেস আইডিয়া শেয়ার করবে।
ওকে বললাম, আগে খাবো তারপর তোর কথা শুনবো। কারণ, তোর আইডিয়া শোনার পর আর খিদে থাকে না।
দুইবন্ধু মিলে গোটাছয়েক ইরানি নানরুটি আর দেড়কেজি বগুড়ার দই শেষ করলাম।
মাথা ঠান্ডা করে বললাম, বল দোস্ত তোর এবারের নতুন আইডিয়া কী?
জুয়েল বলতে আরম্ভ করলো- দোস্ত, জ্বালানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট চলছে, আমি খবর পেয়েছি এই সংকট আরও তীব্র হবে। এইটা কেউ থামাইতে পারবে না। একদম শিওর শট ক্রাইসিস আসতাসে। এইটারে আমি ক্যাশ করুম।
কীভাবে?
আমি প্রতিটি জেলায় প্রতিনিধি ডিলার নিয়োগ দিবো। তাদের কাজ হবে সারা এলাকা থেকে যত কাঠখড়ি আছে সব সংগ্রহ করে মজুদ করা। পাহাড়েও কথা বইলা রাখসি, চাপ বাড়লে পাহাড়ের গাছ ছাপা কইরা দিমু। ঢাকায় বিশাল একটা ওয়্যার হাউজ করমু, সেইখানে সব জমা হইবো। এরপর শুরু হইবো আসল খেলা।
কীভাবে খেলবি?
হোলসেল তো থাকবেই, ফ্রাঞ্চাইজি সেল করবো, পাশাপাশি বিভিন্ন পশ এলাকাতে কাঠখড়ি জ্বালানি বুথ বানাবো সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি নিয়ে। এরপরের চিত্র তুই একবার ভেবে দ্যাখ দোস্ত, পুরাই লালে লাল।
এই প্রথম তোর কোনো বিজনেস আইডিয়া আমার পছন্দ হলো। তবে গাছ কাটার যে ধান্দা তুই করছি, এরজন্য একটা খেজুর গাছ তোর পশ্চাৎদেশে প্রবেশ করানো উচিৎ।

আমি প্রস্থান করলাম।
ওর আসলে লজ্জার বড্ড অভাব, ব্যবসায়ী হতে হলে এই জিনিসের অভাব থাকা লাগে? জুয়েল, তুই একটা ফেরেব্বাজ!

Scroll to Top