একটা কালো জিপ আমার প্রায় গাঁ ঘেষে দাড়ালো। মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো, হাঁটা থামিয়ে গাড়ির দিকে তাকিয়ে আছি। গাড়ি আর গাড়ির গ্লাস সব কালো, নাইজেরিয়ার গাড়ি মনে হয়। অবশ্য আমার গায়ের কালারের সাথেও ম্যাচ করে।
ড্রাইভার নেমে এলো। কিন্তু ঝাড়ি দেয়া হলো না। আমার বহু পুরনো দোস্ত, ফটকা জুয়েল। ও বুঝে ফেলেছে যে আমি বিরক্ত হয়েছি, মুচকি হাসতে হাসতে কাছে এগিয়ে এলো। হাত বাড়ালো, আমি বাড়িয়ে দিলে বললাম- না ঠিক আছে, ব্রেকটা একদম লেগুনার ড্রাইভারের মতই করেছিস। কিন্তু তুই লেগুনার ব্যবসা করতি ভালো কথা, তাইবলে লেগুনার ড্রাইভারের মত ব্রেক করলি কীভাবে!
-আরে মজা লইছ না। তোর লগে কথা আছে। চল কফি খাইতে খাইতে কমু।
আমি গরম কফি খেতে পারি না। মানে পান করতে পারি না। এজন্য লেবুর শরবত নিলাম। ফটকা জুয়েল এসেছে ওর নতুন বিজনেস আইডিয়া শেয়ার করতে। ওর একটা বিরাট গুন আছে, আমি ওকে যতই বকাবকি করি, ও গায়ে মাখে না। অকারণে হাসতে পারে সে, আর হেসেই সব কটু কথা উড়িয়ে দেয়।
জুয়েলের নতুন ব্যবসার আইডিয়া শোনা শুরু করলাম।
-দোস্ত, আমিতো মিষ্টির শুরু করতাছি। আগে শুইনা ল, কিছু কইছ না। এইটা ট্র্যাডিশনাল মিষ্টির ব্যবসা না। আমিতো বিজনেসের কাজে দ্যাশ-বিদ্যাশ ঘুরি। নতুন একটা ক্যামিক্যালের সন্ধান পাইছি, তুই এইডারে একপ্রকার নেশাদ্রব্যও কইতারোছ, কিন্তু এইডা আমি নিশা হিসেবে ব্যবহার করুম না, ভালো কামে লাগামু। আমি একটা মিষ্টির ফ্যাক্টরি দিমু, মিষ্টি বানামু ফার্স্ট ক্লাস। একদম সেরা কারিগর দিয়া, একদম হাইজেন মেন্টেন কইরা প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির মিষ্টির ফ্যাক্টোরি দিমু। একদম লাস্টের ইস্টেজে গিয়া মিষ্টির লগে ঐ ক্যামিক্যাল মিশাইয়া দিমু। মিষ্টি তো এমনিতেই ফার্স্টক্লাশ, এরসাথে এইডা দিলে যে খাইবো এই মিষ্টির নিশাই পইড়া যাইবো। খালি এই মিষ্টি খাইতে চায়বো। অহন ক আইডিয়াডা ক্যামন হইছে?
আমি একদমে লেবুর শরবত (জুস) শেষ করলাম। তারপর বললাম- জুয়েল, তুই কতগুলো গালি জানিস?
-লাখ খানিক অইবো দোস্ত, ক্যান?
-এই মুহূর্তে কতগুলো মনে আসছে?
-প্রায় শদুয়েক কড়া গালি।
-অই শদুয়েক গালি তোরে দিতে ইচ্ছে করছে, দিলাম না।
-গালিতো তাইলে খাইয়াই ফালাইছিরে হালাই!
আমার বন্ধু ফটকা জুয়েলের সাথে আমার আলাপ যেভাবেই শুরু হোক, শেষটা কখনও মধুর হয় না। এবারও হলো না। ও মন খারাপ করে চলে গেলো। আমি জানি ও ব্যবসাটা দিবেই, তবে মন খারাপ করে দিবে। মাঝখান দিয়ে শ দুয়েক গালি খেলো।
