নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ধস ও বন্যা, আমার ভাবনা

নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ধস ও বন্যা, আমার ভাবনা

নেপালে পাহাড়ধসে সৃষ্ট ফ্ল্যাশফ্ল্যাডে ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। হলিউডের চলচ্চিত্রে যেসব দৃশ্য দেখে অভ্যস্ত তা যেন এবার মানুষ বাস্তবে দেখে হতভম্ব হয়ে গিয়েছে।
এতো শুধু পানি নয়, ঘন কাদার বন্যা। সাঁতরে প্রাণ রক্ষার কোন সুযোগ নেই।
খবর বিশ্লেষণ করে যেটুকু জানতে পেরেছি তা এরকম- হিমালয়ের হিমবাহ/পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ে, বরফ, পাথর ও মাটি নদীতে পড়ে, নদীর প্রবাহ সাময়িকভাবে আটকে যায়, কারণ সেটা শুধু পানি ছিলো না, বরফ ও মাটি মিশে তা বিশাল এক কাদার নদী প্রবাহে রূপ নিয়েছিলো, যা নদী তার বুকে ধারণ করে অভ্যস্ত নয়। প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে যায়, বিপুল পানি ও ধ্বংসাবশেষ প্রচণ্ড গতিতে নিচে নেমে আসে, শুরু হয় ভয়াবহ ফ্ল্যাশ ফ্লাড।

এই পানি প্রথমে লেন্ডে খোলা (Lhende Khola) নদীতে গিয়ে পড়ে, পরে ভোটে খোশি- ত্রিশুলি (Bhote Koshi – Trishuli) নদী ব্যবস্থায় প্রবাহিত হয়। ত্রিশুলি নদীর পানির উচ্চতা অল্প সময়ে প্রায় ৯ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যায় বলে রিপোর্ট করা হয়েছে।
প্রথমদিকে ভূমিকম্পকে সম্ভাব্য কারণ মনে করা হয়েছিল। কিন্তু পরে USGS-এর বিশ্লেষণে দেখা যায়, যে ৫.২ মাত্রার ভূকম্পন-সদৃশ সংকেতটি ধরা পড়েছিল, সেটি আসলে বৃহৎ ভূমিধসের ফল, ভূমিকম্পের কারণে ভূমিধসটি শুরু হয়েছিল—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এখন আসুন, আমি কী চিন্তা করছি তা আপনাদেরকে জানাই। ছোট্ট করে বললে- নেপালের পাশে কোনো শক্তিশালী দেশ নিজেদের প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে প্রথম বরফের ধ্বস নামিয়েছে, এটা প্রাকৃতিক নয়, হিউম্যান মেইড। এরপর বাকি কাজ ভৌগলিক ডিজাইনে হয়েছে।
এতে ওদের লাভ কী?
নেপাল একটি প্রতিবেশি প্রভাবিত দেশ। কিন্তু প্রতিবেশি তো একটি নয়। সুতরাং, একটি প্রতিবেশিকে বন্ধু হিসেবে নিলে বাকি প্রতিবেশি সেখানে স্থির পরিবেশ সাসটেইন করতে দিবে না, এটাই বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থার নিয়ম।
বৃহদার্থে বিশ্ব ব্যবস্থা গুটি কয়েক মানুষজনের হাতের মুঠোয়। অনেক কিছুর মতো তারা পুরো বিশ্বে অনেক কিছুর চাষাবাদ করে, যেমন দারিদ্রতা, অস্থিরতা, সহিংসতা, রোগ, যুদ্ধ-বিগ্রহ, লোভ, হিংসা। এগুলো ক্ষমতার চাষ। এখন এই ফসল চাষ কি সব জায়গাতে হয়?
না, কোন ভূমিতে চাষ করা হবে তা তারা নিজেরা ঠিক করে, এরপর সেই ভূমি যদি উর্বর না থাকে তাহলে উর্বরতা বৃদ্ধি করে, আর উর্বর থাকলে তো কথা নেই।

যাইহোক, এসব কেবলই আমার চিন্তা, ভাবনা বৈ আরকিছু নয়। তবে বাংলাদেশ প্রায় সবগুলো ফসলের জন্য বাই ডিফল্ট উর্বর ভূমি।

 

২৭ আগস্ট, ২০২৬

Scroll to Top