আমার দোস্ত রানা। ওর মাথায় কখন কী ভুত চাপে ঠিক নেই। ওর একটা লম্বা বাইক আছে, যাতে তিনজন অনায়াসে বসা যায়। রানা তার এই বাইকের নাম দিয়েছে ‘মাথানষ্ট’। এই ‘মাথানষ্ট’র নিয়মিত আরোহী রানা, রাজীব আর আমি। আজকের গন্তব্য পুরান ঢাকার হাজীর বিরিয়ানি।
রাত ৩টা।
আমাদের গাড়ি চলছে ধানমন্ডির ফাঁকা রাস্তা দিয়ে। আমাদের তিনজনেরই মাথায় হেলমেট আছে। তবে আমারটার বেল্ট নেই, এজন্য একহাত দিয়ে হেলমেট চেপে ধরে আছি যেন বাতাসে উড়ে না যায়।
নূরজাহান রোডের একটা ফলের দোকান থেকে প্লাস্টিকের সুতলি এনে রাজীব আমার হেলমেটের বেল্ট সমস্যার সমাধান করে দিলো! মাথার উপর হেলমেট ডানবাম করে যেন কোমরের ব্যায়াম করছে।
ঝিকাতলা পার হবার সময় টহল পুলিশ আমাদের থামালো। পুলিশ দলপতি কথা বলার সময় আমাদের দিকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিলেন। কাগজপত্র চেক করার পর আমার হেলমেট দড়ি দিয়ে কেন বাঁধা সেটা নিয়ে প্রশ্ন। এতরাতে তিন বুড়োভাম কেন বাইরে সেটা আরও বড় প্রশ্ন। তবে এসব পরিস্থিতি আমাদের জন্য খুবই পরিচিত। পথচারী পুলিশে এমন অবস্থা যখন জমে ওঠে, ঠিক সেই সময় রানা বাইক থেকে নেমে পুলিশের কানে কী যেন মন্ত্র পড়ে, তারপর এসে আমাদের বলে- ওঠ। আমরাও উঠে পড়ি, একটানে গন্তব্যে। ওর এই মন্ত্র অনেক শিখতে চেয়েছি, ও মুচকি হাসে, কিন্তু বলেনা।
তো আমরা এখন হাজীর বিরিয়ানির সামনে। সারা রাস্তা বিরিয়ানির চেহারাটা চোখের সামনে ভাসছিলো, সেই কল্পনা এতই তীব্র যে ঘ্রাণটাও বাইকে বসে পাচ্ছিলাম। এই মুহূর্তে বিরিয়ানি সরাসরি ঘ্রাণ ছড়িয়ে ক্যাটরিনা কাইফের মত ডাকছে। আমাকেও, রাজীবকেও।
রানার চা পানের অভ্যেস আছে। হাজীর বিরিয়ানির সামনেই ‘হাজী টি স্টল’। ওখানেই রানা আর রাজীব চা পান করছে। আমি চা পান করিনা, তারউপর বিরিয়ানি ছাড়া এখন মনের মধ্যে অন্যকিছু নেই। একটু পরপর ওদের চা দ্রুত শেষ করার তাড়া দিচ্ছি।
চা পান করা শেষ। রাজীব আগেই হাজীর বিরিয়ানিতে গিয়ে বসে আছে। রানা চায়ের দোকানে টাকা ভাংতি নিয়ে ডাক দিয়ে এদিকে আসতে বললো। আমাকে বললো ওঠ।
রাজীব ভ্রু কুচকে এগিয়ে আসছে। আমি চোখ রসগোল্লা বানিয়ে রানাকে জিজ্ঞেস করলাম- কি রে কই যাবো এখন!
রানা বললো – ক্যান, বাসায়। তাড়াতাড়ি ওঠ তোরা।
-এই না হাজীর বিরিয়ানি খেতে আসলাম!
-কখন বললাম বিরিয়ানি খাবো? আমি তো চা খাওয়ার জন্য আইছি।
-তুই-ই তো ফোন করে বললি যে, নিচে নাম আজকে পুরান ঢাকার হাজী খাবো!
-তাই-ই তো খাইলাম। আমি তো হাজী টি স্টলের ‘হাজী টি’ খাইতে আসছিলাম। এতদূর একা আসা যায়? তাড়াতাড়ি বাইকে ওঠ, অনেক রাত হইছে!!!
ত্রিরত্ন
সেলিম হোসেন
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *